Home => IFB Introduction
ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচিতি
১৯৭১ সালে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সর্বাত্মক মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। দেশের সর্বসত্মরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকলেও একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠী ‘ইসলামি সংহতি’ ও ‘মুসলিম ভ্রাতৃত্ব’ অটুট রাখার অজুহাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং তৎকালীন পাকিসত্মানি স্বৈরশাসক গোষ্ঠী ও হানাদার বাহিনীর সাথে হাত মেলায়। ইসলামের ভুল-ব্যাখ্যা করে তারা সরলপ্রাণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে এবং মুক্তিযুদ্ধকে ইসলাম-বিরোধী কাজ ও মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী জনগণকে ইসলামের শত্রু বলে আখ্যায়িত করে। শুধু প্রচার-প্রচারণা নয়, ইসলামের অপব্যাখ্যা করে হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হত্যা-লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী সকল অনৈসলামিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের এই তৎপরতা ছিলো সম্পূর্ণ অন্যায় ও ইসলামি আদর্শের পরিপন্থি। মুক্তিযুদ্ধ ছিলো হানাদার জালিমের বিরুদ্ধে মজলুম জনগণের ইসলাম সম্মত এক সর্বাত্মক ন্যায়যুদ্ধ। ওই সময় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ইসলাম-বিরোধী কর্মকান্ডের কারণে দেশ-বিদেশে শামিত্মর ধর্ম ইসলামের ভাব-মর্যাদা দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হয়।
এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মাবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এরই ফলশ্রম্নতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামি আদর্শের যথাযথ প্রকাশ তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিলো জাতির জনকের সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অমিত সম্ভাবনাময় স্বর্ণফসল।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ প্রণীত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র, একাডেমী , ইন্স্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বা সেগুলোকে আর্থিক সাহায্য প্রদান-যাতে সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে ইসলামের প্রচার-প্রসার সম্ভব হয়;
সংস্কৃতি, মনন, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম অবদান সম্পর্কে গবেষণার ব্যবস্থা;
সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ন্যায় বিচার সংক্রামত্ম ইসলামের মৌলিক আদর্শের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা;
ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে অধ্যয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান, গবেষণাক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ আবদানের জন্য পুরস্কার এবং পদক প্রবর্তন ও প্রদান, এ সমসত্ম বিষয়ে আলোচনা, বক্তৃতা, বিতর্ক-সভা, সেমিনার ইত্যাদির আয়োজন, গবেষণা ও আলোচনাপ্রসূত গ্রন্থ, প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ, অনুবাদ, সংকলন, সাময়িকী এবং পুসিত্মকা প্রকাশ ইত্যাদি;
উপরিউক্ত কর্মসূচি সংক্রামত্ম প্রকল্প রচনা, সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাসত্মবায়নে সাহায্য-সহায়তা দান এবং ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনুকূল অন্য যে-কোনো কর্মসূচি গ্রহণ।
বোর্ড অব গভর্নরস
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনসত্ম একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বোর্ড অব গভর্নরস। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম বাসত্মবায়নের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও সার্বিক নির্দেশনা প্রদান, তত্ত্বাবধান, পর্যবেক্ষণ বোর্ড অব গভর্নরস-এর কাজ। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী পদাধিকারবলে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এই বোর্ডের চেয়ারম্যান। উক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য হিসেবে আছেন: মাননীয় সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত ইসলামি চিমত্মাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ।
সাংগঠনিক কাঠামো
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। দেশের সকল জেলা সদর ও বিভাগীয় শহরে এর শাখা কার্যালয় এবং ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সব মিলিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের অন্যতম প্রধান এবং ধর্মীয় সেক্টরে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারা দেশে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক। তিনি প্রেষণে বা চুক্তিভিত্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ নির্বাহী হিসেবে এর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ বোর্ড অব গভর্নরস-এর সিদ্ধামত্মসমূহ বাসত্মবায়নের দায়িত্ব তঁার ওপর ন্যসত্ম।
ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সুষ্ঠু বাসত্মবায়নে তঁাকে সহযোগিতার জন্য আছেন ১ জন সচিব, ১৪ জন পরিচালক, ৭ জন প্রকল্প পরিচালক ও ১ জন প্রকল্প ব্যবস্থাপক (প্রেস)। এঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব বিভাগে র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জনবল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনে রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খা তের জনবল রয়েছে।
তহবিল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তহবিলের প্রধান উৎস জি.ও.বি বা বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ। রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খাতের বরাদ্দ প্রধানত সরকার থেকে আসে। এ ছাড়া রয়েছে বই বিক্রি, দোকান ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত আয়।
কার্যক্রম: ইসলামিক ফাউন্ডশনের রাজস্ব ও উন্নয়ন- উভয় খাতের কর্মসূচি বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে বাসত্মবায়িত হয়। এগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রশাসন বিভাগ: একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অনুকূল পরিবেশ, স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও সার্বিক সফলতা প্রধানত নির্ভর করে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জনবল-ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শিতা ও পারঙ্গমতার ওপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগ এ ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সমন্বয় বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় ও ফলোআপ এ বিভাগের প্রধান কাজ- বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোয় বরাদ্দকৃত অর্থ প্রেরণসহ কার্যক্রম পরিচালনা ও বাসত্মায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব এ বিভাগের। প্রতিবছর দেশব্যাপী জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনসহ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী জাতীয় শিশুদিবস উপলখ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন, পনেরই আগস্ট জাতির জনকের শাহাদত-বার্ষিকী উপলখ্যে দেশব্যাপী হিফয ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন, যৌতুক প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি, শিশু ও নারী পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায় ৮টি হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালনা, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে বাসত্মবায়ন, জেলা পর্যায়ে চঁাদ দেখা কমিটির কার্যক্রম বাসত্মবায়ন ও হজ্জ ব্যবস্থাপনা, যাকাত সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ে ইমাম বাছাই, জেলা কার্যালয়ের লাইব্রেরী পরিচালনা, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন ও মূল্যায়ন, জেলা অফিসসমূহের বাড়ি ভাড়া চুক্তি নবায়ন ইত্যাদি নানা কর্মসূচি সুচারম্নভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমন্বয় বিভাগ সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে। প্রধান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভা আয়োজনের দায়িত্বও এ বিভাগের।
অর্থ ও হিসাব বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম যাবতীয় কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত। ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুযায়ী রাজস্ব খাতের অর্থ ছাড়করণের ব্যবস্থা, যথাযথভাবে ব্যয়-ব্যবস্থাপনা ও এতদসংক্রামত্ম রেকর্ড-পত্র সংরক্ষণ, মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসের তহবিল নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ, অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম নীতিমালা প্রণয়ন, বাসত্ম-বায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা আপত্তির নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজ অর্থ ও হিসাব বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
পরিকল্পনা বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের সকল প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাসত্মবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং এ সংক্রামত্ম প্রতিবেদন প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়করণসহ যাবতীয় কাজ, এডিপি প্রণয়ন, সুপারভিশন, পরিসংখ্যানগত তথ্যাদি প্রণয়ন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক প্রতিবেদন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে/বিভাগে প্রেরণ ইত্যাদি কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত।
ইসলামিক মিশন: ইসলামের মানবতাবাদী ও সেবাধর্মী বৈশিষ্ট্যের বাসত্মব রূপায়নে এ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। দুস্থ, দরিদ্র ও অনগ্রসর মানুষের চিকিৎসা-সেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রত্যমত্ম অঞ্চলের সহায়-সম্বলহীন জনগণকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) ও সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং মসজিদভিত্তিক মক্তব ও নৈশ মক্তব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, নূরানী পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন ও নামায শিক্ষা প্রদান, পবিত্র কুরআনের তাফসীর ও ইসলামি আদর্শে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠান বাসত্মবায়নের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার; মুবালিস্নগ, নওমুসলিম ও মক্তব শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে জীবন যাপনে জনগণকে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করা, বৃক্ষ রোপণ ও বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবল থেকে দেশকে রক্ষায় সহযোগিতা ইত্যাদি মানব-কল্যাণমুখী নানা কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করছে ২৮টি জেলার প্রত্যমত্ম অঞ্চলে অবস্থিত ইসলামিক মিশনের ৩১টি কেন্দ্র। এ ছাড়া বায়তুল মুকাররমস্থ ইসলামিক মিশন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ৪০% কমিশনে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে সেবা প্রদান করে ইসলামিক মিশন কেন্দ্রগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে ইসলামিক মিশন বিভাগের অর্জন উলেস্নখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বায়তুল মুকাররমস্থ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এবং ৩১টি মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তদের সংখ্যা ২ কোটি ২ লক্ষ্য ৯৭ হাজার ৭০০ জন। ইসলামিক মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্র আয়োজিত চক্ষু শিবিরে ১৭ হাজার ৪০২ জনকে চক্ষু চিকিৎসা এবং সুন্নতে খাতনা শিবিরে ১ হাজার ৫ শত ৬৮ জনকে সুন্নতে খাতনা করানো হয়েছে।
দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ: ইসলামের শিক্ষা, আদর্শ, সৌন্দর্য ও চিরমত্মন মহিমা-স্নিগ্ধ পরিশুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার-প্রসার ও সমুন্নতকরণে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাসত্মবায়ন এ বিভাগের কাজ। এ লক্ষ্যে ইসলামের কল্যাণময় বৈশিষ্ট্যাবলি হাইলাইট করে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা, দরসে হাদীস, ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। মহানবী (সা)-এর অনুপম শিক্ষা ও আদর্শ ব্যাপকভাবে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর ঢাকায় পক্ষকালব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানমালার আয়োজনসহ ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসসমূহ ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয় এ বিভাগের মাধ্যমে। শুধু পুরম্নষদের জন্য নয়, উলিস্নখিত অনুষ্ঠানমালা মহিলাদের জন্যও আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় এ বিভাগের মহিলা শাখার মাধ্যমে। আমত্মর্জাতিক কিরাত ও হিফ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগী বাছাই ও প্রেরণ, জাতীয় পর্যায়ে ফিতরা নির্ধারণ, প্রতিমাসে জাতীয় চঁাদ দেখা কমিটির সভা আয়োজন; মহিলা শাখার মাধ্যমে দরিদ্র ও দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা, মহিলাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পাঠাগার পরিচালনা প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করছে দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব, দুবাই, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, মিশর, জর্দান, তুরস্ক, আলজেরিয়া, ভারত, পাকিসত্মান প্রভৃতি দেশে আয়োজিত হিফ্য, ক্বিরাত ও তাফসীর প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১১০ জন হাফেজ, ক্বারী ও মুফাসসির বিভিন্ন মানের পুরস্কার অর্জন করেছেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ সব পুরস্কারের আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা এবং প্রাপ্ত স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ ৩৫০ ভরি।
বাংলাদেশ ও ভ্রাতৃপ্রতীম মিশর সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় মিশর সরকার প্রদত্ত শিক্ষা -বৃত্তির অধীনে মিশরের বিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী বাছাইয়ের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে এ বিভাগ। এ বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত আধুনিক আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রকে এখন সময়ের প্রয়োজন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ ভাষা ইন্সটিটিউটে উন্নীত করা হয়েছে। এ বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত অনুবাদ শাখার দক্ষ অনুবাদ-কর্মীদের দ্বারা বিদেশ গমনকারীদের বিভিন্ন সনদপত্র, দলিল, চিঠিপত্র ইত্যাদি নির্ভুলভাবে আরবি-ইংরেজি-বাংলায় অনুবাদ করা হয়। প্রফেশনাল অনুবাদকদের দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা গ্রহণ করে উত্তীর্ণদের সনদ প্রদানের দায়িত্বও এ বিভাগ পালন করে।
এ ছাড়া, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক ‘হালাল সনদ’ প্রদান করার দায়িত্ব পালনার্থে এই বিভাগের আওতাধীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
প্রকাশনা বিভাগ: প্রকাশনা-মাধ্যমে ইসলাম প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে এই বিভাগ গুরম্নত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ইসলামের শাশ্বত মহিমা, সৌন্দর্য, শিক্ষা ও আদর্শ হাইলাইট করে এ বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম ৩ হাজার ২০০ শিরোনামের পুসত্মক প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলিসহ পবিত্র কুরআন ও হাদীস সম্পর্কিত এবং মহানবী (সা)-এর জীবনচরিতসহ তঁার অনুপম আদর্শ ও শিক্ষাসম্বলিত বহু বই এ বিভাগ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, আইন ও বিচার, বিজ্ঞান-স্থাপত্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার, যৌতুক ও মাদকাসক্তির কুফল, নারীর অধিকার ও মর্যাদা, সাহাবায়ে কিরামসহ পীর-আউলিয়াদের জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা-আন্দোলন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য মনীষীদের জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে পুসত্মক প্রকাশিত হয়েছে এ বিভাগ থেকে। বস্ত্তত ইসলামি সাহিত্যের উৎকর্ষ ও বিকাশ সাধন, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং সাহিত্যিক সৃষ্টি ও পরিশীলিত মানস গঠনের ক্ষেত্রে এ বিভাগ এক নীরব বিপস্নব সাধন করেছে।
প্রকাশনা বিভাগের বই মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ছাড়াও অন্যান্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত অনেক পুসত্মকের পুনর্মুদ্রণের দায়িত্বও এ বিভাগ পালন করে। এ পর্যায়ে উলেস্নখযোগ্য পুনর্মুদ্রিত পুসত্মকগুলোর মধ্যে রয়েছে: বঙ্গানুবাদসহ আল-কুরআনুল করীম, সিহাহ্ সিত্তাহ্র হাদিসের সংকলনসমূহ, তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, তাফসীর ইবনে কাছীরসহ জগদ্বিখ্যাত অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থ, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, সাইন্টিফিক ইনডিকেশন্স ইন দি হোলি কুরআন, আল-হিদায়া, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামী বিশ্বকোষ, আল-কুরআন বিশ্বকোষ-এর পুনর্মুদ্রণ ইত্যাদি। এ বিভাগ থেকে সৃজনশীল মাসিক পত্রিকা অগ্রপথিক এবং সচিত্র শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা সবুজ পাতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে ইসলামি আদর্শ ও মনন বিকাশে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকাশিত বই ও পত্রিকা রক্ষণাবেক্ষণ, বিক্রয়-বিপণনের দায়িত্বও এ বিভাগের ওপর ন্যসত্ম।
গবেষণা বিভাগ: পবিত্র কুরআন ও হাদিসসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি এবং ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং সংশিস্নষ্ট বিষয়ে পুসত্মক প্রকাশ এ বিভাগের দায়িত্ব। এ বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম ১২০টি গবেষণা-গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো: Scientific Indications in the Holy Qur’an, Muslim Contribution to Science & Technology, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ছোটদের বিশ্বকোষ, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, আল-কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত, জরম্নরী ফাতাওয়া ও মাসাইল, হাদীস ও সামাজিক বিজ্ঞান, আরবী-বাংলা ও বাংলা-আরবী অভিধান ইত্যাদি। এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত Scientific Indications in the Holy Qur’an Ges Muslim Contribution to Science & Technology বই দুটি বিষয়ের উপস্থাপনা ও জ্ঞানের গভীরতায় আমত্মর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং অনুসন্ধিৎসু পাঠক ও গবেষকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম বইটিও পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদর লাভ করেছে।
এ বিভাগ থেকে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা’ শীর্ষক একটি গবেষণা ত্রৈমাসিক দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত প্রকাশিত হচ্ছে্, যা গবেষক ও সুধীজনের উচ্চতর গবেষণা কর্মে বিপুলভাবে সহায়তা করছে।
অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ: বিশ্ব-জ্ঞানভা-ারকে অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে তুলে ধরার মহতী লক্ষ্যে অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ নিবেদিত। কুরআনুল করীম, তাফসীর, সিহাহ্ সিত্তাহ্সহ অন্যান্য প্রামাণ্য হাদিস সংকলনসমূহ এবং বিভিন্ন বিষয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় রচিত ক্লাসিক ও আধুনিক গ্রন্থাদি বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশ করার কাজে এ বিভাগ গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে । অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম অনূদিত ও প্রকাশিত মোট গ্রন্থের সংখ্যা ৩৫৯টি । এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত আল-কুরআনুল করীমের বঙ্গানুবাদটি বিশুদ্ধতা, প্রামাণ্যতা ও শিল্পসুষমায় অনন্য, যা কোটি কোটি কুরআন-পিপাসু মানুষের চাহিদা মিটিয়ে চলেছে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে।
অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ থেকে আরও যে-সকল গুরম্নত্বপূর্ণ গ্রন্থ অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: হাদীস-সিহাহ্ সিত্তাহ্র পূর্ণ সেট (সহিহ্ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবূ দাঊদ ও ইবনে মাজাহ্ শরীফ), মুয়াত্তা ইমাম মালিক, মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, তাজরীদুস সিহাহ্ (পুনরাবৃত্তিমুক্ত সহিহ্ হাদীস), আখলাকুন নবী (সা), আল-আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার) ইত্যাদি; তাফসীর-তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মাজেদী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে উসমানী, তাফসীরে ইবনে আববাস, তাফসীরে কাবীর প্রভৃতি জগদ্বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ। এ ছাড়া ফাতওয়ায়ে আলমগীরী, আল-হিদায়া, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইসলামের ইতিহাস: আদি-অমত্ম); মহানবী (সা)-এর জীবন ও কর্ম বিষয়ক সীরাত-গ্রন্থ সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিশাম, আসাহ্হুস সিয়ার, মহানবীর (সা) জীবন-চরিত, রাসূলে রাহমত (সা), নবীয়ে রহমত (সা), সীরাতুল মুমত্মফা (সা)। আধুনিক মননসমৃদ্ধ বইয়ের মধ্যে রয়েছে-ইসলাম দ্য অলটারনেটিভ, মৌলিক মানবাধিকার, ইসলামের অর্থনৈতিক মতাদর্শ, অসত্যের কালোমেঘসহ আরও বেশকিছু গুরম্নত্বপূর্ণ বই।
ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগ: এই বিভাগের কাজ হলো ইসলাম ও ইসলাম-সম্পৃক্ত বিভিন্ন ধরনের বিশ্বকোষ প্রকাশ। এ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ২৬ খন্ড (২৮টি বই) সম্বলিত বাংলাভাষার বৃহত্তম বিশ্বকোষ, যার শিরোনাম ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’। এই বৃহদায়তন বিশ্বকোষটি ইসলাম, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-মনীষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, স্থাপত্য, আইন ও বিচার ইত্যাদি বিষয়ে এক সুবিশাল তথ্য-ভান্ডার। ব্যবহারের সুবিধার কথা চিমত্মা করে ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ’ শিরোনামে বৃহত্তর ইসলামী বিশ্বকোষের একটি সংক্ষিপ্ত ভার্সানও প্রকাশিত হয়েছে দু’খন্ডে। এই বিভাগের আরেকটি উলেস্নখযোগ্য প্রকাশনা হলো নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবন-কর্মসম্বলিত ২২ খন্ডে সমাপ্য ‘সীরাত বিশ্বকোষ’-যার মধ্যে ১৪টি খন্ড ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, বাকি খন্ডগুলোও যথাসময়ে প্রকাশিত হবে । পবিত্র কুরআনের সুগভীর জ্ঞান-ভান্ডার সহজভাবে, ছোট ছোট ভুক্তির (ঊহঃৎু) আকারে জনগণের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ বিভাগ ‘আল-কুরআনুল করীম সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছে- এর আওতায় তিন খন্ডে আল-কুরআন বিশ্বকোষ এ বছরের মধ্যেই প্রকাশিত হবে।
দেশের প্রখ্যাত ইসলামি চিমত্মাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষকগণ ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের বিভিন্ন গ্রন্থের ভুক্তি বা নিবদ্ধ রচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী সম্পাদনা পরিষদের মাধ্যমে যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়ে সেগুলো প্রকাশের জন্য চূড়ামত্ম হয়।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী: ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশে নয়, এই উপমহাদেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও ফলপ্রসূ কার্যক্রম। সারাদেশের প্রত্যমত্ম এলাকায় অবস্থিত আড়াই লক্ষ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জাতীয়ভাবে ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এই একাডেমী যুগামত্মকারী সাফল্য অর্জন করেছে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ইসলামের মৌলিক বিষয়সহ আর্থ-সামাজিক বিষয়-যেমন: মৎস্যচাষ, হঁাস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃমঙ্গল, এইডস প্রতিরোধ, যৌতুক ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী জনসচেতনতা, জেন্ডার সমতা ইত্যাদি যুগোপযোগী নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় সংশিস্নষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে। আগে যেখানে শুধু মসজিদের সীমিত গন্ডির মধ্যে ইমামদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিলো, প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তঁারা এখন সমাজের নানা ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে সমাজে তঁাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে তঁারা নানা আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত হয়ে আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিক উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য এবং ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র এবং বেকার যুবকদের আয় বৃদ্ধিকল্পে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এ পর্যমত্ম মোট ৬৬ হাজার ৩২৭ জন ইমামকে নিবিড় প্রশিক্ষণ, ২১ হাজার ১৬৬ জন ইমামকে রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ, ১ হাজার ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ, ১ হাজার ৪৮০ জন ইমাম, মাদ্রসার ছাত্র ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ৩০ হাজার ৪৮ জন ইমামকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক এবং ইউএসএইড-এর অর্থায়নে এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১৫ হাজার ১ জন ইমামকে লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (এল. ও. আই.) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় এ পর্যমত্ম সর্বমোট প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১২২ জন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা/বিভাগের মোট ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাসত্মবায়িত হচ্ছে। ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিরাট ইতিবাচক অর্জন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরী: লাইব্রেরী জ্ঞান ও তথ্যের ভান্ডার-জ্ঞানের অসংখ্যা মুক্তো থরে থরে সাজানো থাকে লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগারে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীও তার ব্যতিক্রম নয়। পবিত্র কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ইসলাম ও ইসলামসম্পৃক্ত বিষয়াবলি, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুসলিম মনীষীসহ অন্যান্য মনীষীদের জীবনী, সাহিত্য-শিল্প, শিশুসাহিত্য, বিভিন্ন ভাষার বিশ্বকোষ-জ্ঞানকোষ ইত্যাদিসহ নানা মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ এ লাইব্রেরী। অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থও ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। এ লাইব্রেরীতে আরও রয়েছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ হসত্মলিখিত কুরআন শরীফ, হযরত উসমান (রা)-এর সময়ে হাতে লেখা কুরআন শরীফ ‘মাসহাফে উসমানী’, অন্ধদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির কুরআন শরীফসহ বিভিন্ন ছাপার কুরআন শরীফ। অনুসন্ধানী গবেষক এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এই লাইব্রেরী ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বিপুলভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি লাইব্রেরী- বর্তমানে এর পুসত্মক সংখ্যা ১ লক্ষ ১২ হাজার । এ ছাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য সাময়িকী মিলিয়ে দেশী-বিদেশী ৪০টি পত্র-পত্রিকা রাখা হয় পাঠক-গবেষকদের জন্য। লাইব্রেরী ভবনের নিচ তলায় বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার ও ইসলামি কালচারের সমন্বয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত একটি প্রদর্শনী হল রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীতে অটোমেশন কার্যক্রম অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধ্যমে পাঠক-গবেষকদের যাবতীয় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে লাইব্রেরীর সব সুবিধা দেশ-বিদেশের পাঠক-গবেষকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের যে-কোনো প্রামেত্মর পাঠক ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইব্রেরীর সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া আগ্রহী পাঠক-গবেষকগণকে জরুরি প্রয়োজনে বই/বইয়ের অংশবিশেষ ফটোকপি সার্ভিসও প্রদান করা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমৃদ্ধ লাইব্রেরীটি বর্তমানে বায়তুল মুকাররম মসজিদের দক্ষিন -পূর্ব কোণে একটি সুপ্রসস্থ নতুন ভবনে (৪র্থ তলা পর্যন্ত নির্মিত) স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে পাঠক-গবেষকগণ একটি মনোরম পরিবেশে অধিকতর স্বচ্ছন্দভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। অদূর-ভবিষ্যতে লাইব্রেরী ভবনের ৪র্থ তলায় মহিলা, শিশু, অন্ধ, প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য আলাদা পাঠক কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হবে। উল্লেখ্য, লাইব্রেরীর নতুন ভবনে পাঠকদের স্বচ্ছন্দ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য লিফ্ট ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানা: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, গবেষণা, অনুবাদ ও সংকলন এবং বিশ্বকোষ বিভাগের সুবিশাল প্রকাশনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের কাজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সব বিভাগের সকল বই ও পত্র-পত্রিকা মুদ্রণের কাজ করছে ফাউন্ডেশন প্রেস। এ ছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের যাবতীয় পাঠ্যপুস্তক এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর যাবতীয় প্রকাশনা কাজও করে থাকে ফাউন্ডেশন প্রেস।
অত্যাধুনিক মুদ্রণ-যন্ত্রসমৃদ্ধ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানা বাংলাদেশের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত ছাপখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যাপ্ত স্থানসম্বলিত দ্বিতল ভবনে অবস্থিত এই ছাপাখানায় রয়েছে অত্যাধুনিক ৪টি হাইডেলবার্গ, ১টি সিটিপি, ১টি কাটিং ও ১টি অটোমেটিক ফোল্ডিং মেশিন, ওএমআর মিনি অফসেট মেশিন, ফয়েল প্রিন্টিং মেশিন, স্টিচিং মেশিন, ফ্লাড বেড স্ক্যানার, ডিজিটাল সিকিউরিটি সংক্রামত্ম আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর, ভিডিও রেকর্ডিংসহ সিসি ক্যামেরা ও এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন; রয়েছে কম্পিউটার, ক্যামেরা ও পেস্নট-প্রসেস সেকশন এবং একটি আলাদা ভবনে নিজস্ব বঁাধাইখানা। মেশিন, কম্পিউটার, পেস্নট ও প্রসেস সেকশন শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কর্মীরা উন্নত ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বস্ত্তত আধুনিকায়ন এবং অভ্যমত্মরীণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষের কারণে বর্তমানে প্রেসটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
যাকাত বোর্ড: ইসলামের মানবতাবাদী আদর্শের বাসত্মব রূপায়ন তথা দুস্থ অসহায় মানুষের কল্যাণে যাকাত বোর্ড নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ইসলামের একটি অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ হলো যাকাত, যা দুস্থ-দরিদ্রদের জন্য বিত্তবানদের সম্পদের শরীয়ত-নির্ধারিত একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ এবং তা যথাযথভাবে দুস্থ-দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক ইসলামিক ফাউন্ডেশন তার নিজস্ব জনবলের সাহায্যে সারা দেশ থেকে যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহ করে এবং এই কমিটির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তা ব্যয় করা হয়।
যাকাত ফান্ডের অর্থে অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থদের স্বাস্থসেবাসহ আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- টংগী শিশু হাসপাতাল পরিচালনা, সেলাই প্রশিক্ষণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা-উপকরণ বিতরণ, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দরিদ্র বেকারদের রিকশা/ভ্যান ও সেলাই মেশিন প্রদান, অসহায় বিধবা মহিলাদের দারিদ্র্য বিমোচন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে হঁ।স-মুরগি, গরম্ন-ছাগল প্রদান, নদী ভাঙন এলাকায় বাস্ত্তহারা দরিদ্র মহিলাদের গৃহনির্মাণে সহায়তা দান, দরিদ্র বেকারদের মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে পুঁজির সংস্থান ইত্যাদি সেবামূলক কর্মসূচি।
যাকাতের অর্থে এ পর্যমত্ম ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৮১ জনকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, ১২ হাজার ৪৮২ জন দুস্থকে সেলাই প্রশিক্ষণ, ৯ হাজার ৯৮ জন দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি, ২ হাজার ১৬টি রিকশা/ভ্যান ও সেলাই মেশিন, বিধবা পুনর্বাসনের লক্ষক্ষ্য ৬ হাজার ৭৭৮ জনকে হঁাস-মুরগি ও গরম্ন-ছাগল পালনের জন্য আর্থিক সহায়তা, ১,৫৭২টি গৃহনির্মাণ সহায়তা, ২১ জনকে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, সিডরে ক্ষতিগ্রসত্ম পটুয়াখালি, বরগুনা ও সাতক্ষক্ষরা জেলার ২ হাজার ৭০০ জনকে শীতবস্ত্র প্রদান এবং আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ বরগুনা ও বাগেরহাট জেলার ৫০০ জনকে আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যমত্ম ৫০৪ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পঁুজি এবং ৮০৪ জন দুস্থ ও ৫৭ জন নওমুসলিমকে চিকিৎসা ও অর্থসাহায্য প্রদান করা হয়েছে।
যাকাত ফান্ডের অর্থ আয়করমুক্ত। এ ফান্ডে আরও অধিক পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হলে দুস্থ মানবতার কল্যাণে যাকাত বোর্ড আরও বৃহত্তর পরিসরে বেশি বেশি কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প: সরকারের সার্বিক নিরক্ষরতা দূরীকরণ কার্যক্রম ও শিক্ষা প্রসারের অব্যাহত প্রয়াস-প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে- এই প্রকল্পের সফলতার হার ১০০%, কখনও কখনও তারও বেশি। বিনা খরচে মসজিদের স্থান ব্যবহার, স্বল্প খরচে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের শিক্ষক হিসেবে পাওয়া এবং কর্তৃপক্ষীয় নিবিড় তদারকি ও ফলোআপ-এ ক’টি অনুষঙ্গই মূলত এ কার্যক্রমের বিস্ময়কর সফলতার চাবিকাঠি। এই কার্যক্রমের অধীনে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের এবং বয়স্ক নিরক্ষরদের সাক্ষরতা প্রদান করা হয়। বাংলা, অংক, ইংরেজি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দেয়া হয় কেন্দ্রগুলোতে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে এই কার্যক্রমের সফলতা ও ফলপ্রসূতা খুবই আশাব্যঞ্জক। গণশিক্ষা কেন্দ্র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে, অনেকে আবার সরাসরি ২য় শ্রেণীতেও ভর্তি হতে পারছে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের ধারণ ক্ষমতা মজবুত হওয়ার কারণে প্রাইমারি স্কুলে তাদের ঝ‘রে পড়ার (ড্রপ-আউট) হারও নগণ্য।
এই প্রকল্পের অধীনে বিগত চারটি পর্যায়ে (১৯৯৩-‘৯৫, ১৯৯৬-২০০০, ২০০০-২০০৫ ও জানুয়ারি ২০০৬-ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যমত্ম) সর্বমোট ৪১ লক্ষ ৩৯ হাজার ১১০ জনকে শিক্ষাদান করা হয়েছে। প্রতি পর্যায়ে সফলতার হার শতভাগেরও বেশি।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ৫ম অর্থাৎ চলতি পর্যায়ে ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে ৬৪৩.৫৫ লক্ষ টাকার একটি সুবিশাল প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে বাসত্মবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা হলো- প্রাক-প্রাথমিক: ২৪ হাজার, বয়স্ক: ৭৬৮, পবিত্র কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র ১২ হাজার, সাধারণ রিসোর্স সেন্টার: ১ হাজার ৫১টি এবং মডেল রিসোর্স সেন্টার: ৪৮৫টি। চলমান ৫ম পর্যায়ের এই প্রকল্পে বিগত ২ বছরে ২০ হাজার প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ১১ লক্ষ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক, ১২ হাজার কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার জনকে কুরআন শিক্ষা এবং ৭৬৮টি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৪০০ জনকে বয়স্ক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ রিসোর্স সেন্টার এবং মডেল রিসোর্স সেন্টারের কার্যক্রমও সমেত্মাষজনকভাবে বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনবলসমৃদ্ধ প্রকল্প।
মসজিদ পাঠাগার প্রকল্প : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যমত্ম জরম্নরি একটি প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন প্রত্যমত্ম এলাকায় ইসলামি জ্ঞান বিসত্মারের মাধ্যম হিসেবে এই প্রকল্পের অধীনে ৪৭৭টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত মসজিদ পাঠাগারগুলো ইতোমধ্যে ব্যাপক কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ক্রয়কৃত বই দিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদে এ পর্যমত্ম ২৫ হাজার ১৩২টি পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে মডেল পাঠাগারের সংখ্যা ৬৪টি। এ ছাড়া, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩০০টি বিদ্যমান পাঠাগারে পুসত্মক সংযোজন করা হয়েছে এবং ৬ হাজার ১০০টি পাঠাগারে এ সব পাঠাগারে পুসত্মক সংরক্ষণের জন্য আলমারি ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন, হাদীস, তাফসীর ও ইসলাম সংক্রামত্ম নানা গুরম্নত্বপূর্ণ বই, মুসলিম মনীষীদের জীবনী, জাতীয় ও ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ক বইসহ পত্র-পত্রিকা-সাময়িকী রাখা হয়। এ সব পাঠাগার ব্যবহার করে অনগ্রসর প্রত্যমত্ম এলাকার জনগণ নৈতিক উৎকর্ষ ও ইসলামি জ্ঞান অর্জন করে বিপুলভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
বায়তুল মুকাররম মসজিদ: ৮.৩০ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত সাত তলাবিশিষ্ট দেশের সর্ববৃহৎ এ মসজিদটিতে পূর্ব ও দক্ষিন দিকের সাহান মিলিয়ে বর্তমানে সর্বমোট ৩৫ হাজার মুসলিস্ন একসাথে নামায আদায় করতে পারেন। মসজিদের অভ্যন্তরে ওযুর ব্যবস্থাসহ মহিলাদের জন্য আলাদা নামায-কক্ষ ও পাঠাগার রয়েছে। মসজিদের নিচতলায় রয়েছে একটি বৃহৎ মার্কেট কমপ্লেক্স । সৌদি অর্থায়নে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ মসজিদের সু-উচ্চ মিনার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পেক্ষাপটে এর স্বাচ্ছন্দময় সেবার পরিধি এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যান্য কার্যক্রম
ক. রাজস্ব খাতে চলমান প্রকল্প: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতভুক্ত নিম্নবর্ণিত প্রকল্পসমূহ বাসত্মবায়ন করছে:
১) মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়)। মেয়াদকাল: জানুয়ারি ২০০৯-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৬৪৩৫৫.০০ লক্ষ টাকা।
২) মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প (৬ষ্ঠ পর্যায়)। মেয়াদকাল: জুলাই ২০০৮-জুন ২০১১। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৩২৬.৯৫ লক্ষ টাকা।
৩) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)।
মেয়াদকাল: জুলাই ২০০৫-জুন ২০১১। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৬৪৯.০০ লক্ষ টাকা।
৪) লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (এল. ও. আই)। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৬.০০ লক্ষ টাকা।
৫) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপামত্মর এবং ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন।
মেয়াদকাল: সেপ্টেম্বর ২০১০-জুন ২০১২। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১০০৭.০০ লক্ষ টাকা। খ. নতুন প্রকল্পসমূহ:
১) ঝালকাঠি ইসলামিক মিশন কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১৮০৩.০০ লক্ষ টাকা।
২) ইসলামিক মিশন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প (ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ)। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২০৯০.০০ লক্ষ
টাকা।
৩) বঙ্গবন্ধু শিশুমঞ্চ প্রকল্প: কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৩৫.০০ লক্ষ টাকা।
৪) ইসলামী প্রকাশনা কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৭৫৭২.০০ লক্ষ টাকা।
৫) গোপালগঞ্জ ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যসেবা এবং ইমাম প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প।
মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৫০.০০ লক্ষ টাকা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ভবন নির্মাণ (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০- জুন ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৩৬৫৬.০০ লক্ষ টাকা।
সোলার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৭১৬২.০০ লক্ষ টাকা।
গ. সম্ভাব্য বাসত্মবায়নযোগ্য প্রকল্পসমূহ:
১) প্রাইমারী স্কুলভিত্তিক ধর্মীয় ও নৈতিকতা উন্নয়ন শিক্ষা প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৪। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১১৬৩৬০.০০ লক্ষ টাকা।
২) আলেমদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষক্ষ্য যাকাত, উশর আদায় ও বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জানুয়ারি ২০১১-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১২০৩৬০.০০ লক্ষ টাকা।
ঘ) রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রসত্মাবিত কর্মসূচি:
১) সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন এবং ইসলামের আলোকে সামাজিক সমস্যা সমাধান। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৩০.০০ লক্ষ টাকা।
২) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ ৭টি বিভাগের নিজস্ব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৩৩৮.০০ লক্ষ টাকা।
৩) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব, ইসলামিক মিশন ও ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুসংহত ও জোরদারকরণ। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৭৫.০০ লক্ষ টাকা।
৪) বায়তুল মুকাররম মসজিদ শীতলীকরণ কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৯৮৫.০০ লক্ষ টাকা।
৫) সৌদি সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বাসত্মবায়নযোগ্য কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৩০.০০ লক্ষ টাকা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্নের স্বর্ণফসল ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিনি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে সমগ্র জাতিকে যেভাবে অভাবনীয় এক ঐক্যচেতনায় উজ্জীবিত-প্রণোদিত করেছিলেন, সেই একই উদ্দেশ্য কাজ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পেছনে। ইসলামের অপব্যাখ্যা এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে অনেক সময় সাধারণ মানুষের স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে স্বার্থান্বেষীদের প্ররোচনায় সমাজে অনেক সময় মারাত্মক বিভ্রামিত্ম ভেদ-বিভেদ ও দলাদলি-বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়-যার ভয়াবহ দৃষ্টামত্ম পাওয়া যায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে। এ তিক্ত বাসত্মবতার প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু দেশের হাক্কানী আলেম সমাজ, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি চিমত্মাবিদদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি অভিন্ন পস্নাটফর্ম থেকে ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তঁার সূচিত সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন এক বিশাল মহীরম্নহসদৃশ। এই প্রতিষ্ঠান সারা দেশের প্রত্যমত্ম এলাকা পর্যমত্ম তার কর্মসূচি বিস্তৃত করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যচেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শামিত্ম, কল্যাণ ও মানবতার ধর্ম ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচার-প্রসারকল্পে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং সর্বসত্মরের ইসলামপ্রিয় জনগণের সহযোগিতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে; ইসলামের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ অন্যান্য ফেতনা প্রতিরোধের কাজে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে অধিকতর অবদান রাখবে।
এই তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামের যথার্থ শিক্ষা ও মর্মাবাণী সঠিকভাবে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রচার-প্রসারের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এরই ফলশ্রম্নতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক অধ্যাদেশবলে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ইসলামি আদর্শের যথাযথ প্রকাশ তথা ইসলামের উদার মানবতাবাদী চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা ছিলো জাতির জনকের সুদূরপ্রসারী চিন্তার এক অমিত সম্ভাবনাময় স্বর্ণফসল।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ প্রণীত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন অ্যাক্ট। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিম্নরূপ:
মসজিদ ও ইসলামি কেন্দ্র, একাডেমী , ইন্স্টিটিউট ইত্যাদি প্রতিষ্ঠা, পরিচালনা ও সেগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বা সেগুলোকে আর্থিক সাহায্য প্রদান-যাতে সেগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে ইসলামের প্রচার-প্রসার সম্ভব হয়;
সংস্কৃতি, মনন, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিম অবদান সম্পর্কে গবেষণার ব্যবস্থা;
সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও ন্যায় বিচার সংক্রামত্ম ইসলামের মৌলিক আদর্শের প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা;
ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে অধ্যয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ, অধ্যয়ন ও গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান, গবেষণাক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ আবদানের জন্য পুরস্কার এবং পদক প্রবর্তন ও প্রদান, এ সমসত্ম বিষয়ে আলোচনা, বক্তৃতা, বিতর্ক-সভা, সেমিনার ইত্যাদির আয়োজন, গবেষণা ও আলোচনাপ্রসূত গ্রন্থ, প্রবন্ধ ইত্যাদি প্রকাশ, অনুবাদ, সংকলন, সাময়িকী এবং পুসিত্মকা প্রকাশ ইত্যাদি;
উপরিউক্ত কর্মসূচি সংক্রামত্ম প্রকল্প রচনা, সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাসত্মবায়নে সাহায্য-সহায়তা দান এবং ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের অনুকূল অন্য যে-কোনো কর্মসূচি গ্রহণ।
বোর্ড অব গভর্নরস
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনসত্ম একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা। এর সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বোর্ড অব গভর্নরস। ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম বাসত্মবায়নের ক্ষেত্রে নীতি নির্ধারণ ও সার্বিক নির্দেশনা প্রদান, তত্ত্বাবধান, পর্যবেক্ষণ বোর্ড অব গভর্নরস-এর কাজ। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী পদাধিকারবলে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট এই বোর্ডের চেয়ারম্যান। উক্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বোর্ড অব গভর্নরস-এর সদস্য হিসেবে আছেন: মাননীয় সংসদ সদস্য, প্রখ্যাত ইসলামি চিমত্মাবিদ, শিক্ষাবিদ ও সরকারের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ।
সাংগঠনিক কাঠামো
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত। দেশের সকল জেলা সদর ও বিভাগীয় শহরে এর শাখা কার্যালয় এবং ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সব মিলিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন দেশের অন্যতম প্রধান এবং ধর্মীয় সেক্টরে শীর্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সারা দেশে ব্যাপকভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন মহাপরিচালক। তিনি প্রেষণে বা চুক্তিভিত্তিতে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্বোচ্চ নির্বাহী হিসেবে এর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনাসহ বোর্ড অব গভর্নরস-এর সিদ্ধামত্মসমূহ বাসত্মবায়নের দায়িত্ব তঁার ওপর ন্যসত্ম।
ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সুষ্ঠু বাসত্মবায়নে তঁাকে সহযোগিতার জন্য আছেন ১ জন সচিব, ১৪ জন পরিচালক, ৭ জন প্রকল্প পরিচালক ও ১ জন প্রকল্প ব্যবস্থাপক (প্রেস)। এঁরা প্রত্যেকেই স্ব স্ব বিভাগে র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জনবল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনে রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খা তের জনবল রয়েছে।
তহবিল: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তহবিলের প্রধান উৎস জি.ও.বি বা বাংলাদেশ সরকারের বরাদ্দ। রাজস্ব ও উন্নয়ন-উভয় খাতের বরাদ্দ প্রধানত সরকার থেকে আসে। এ ছাড়া রয়েছে বই বিক্রি, দোকান ভাড়া থেকে আয় ও অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত আয়।
কার্যক্রম: ইসলামিক ফাউন্ডশনের রাজস্ব ও উন্নয়ন- উভয় খাতের কর্মসূচি বিভিন্ন বিভাগের মাধ্যমে বাসত্মবায়িত হয়। এগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রশাসন বিভাগ: একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অনুকূল পরিবেশ, স্বচ্ছতা, গতিশীলতা ও সার্বিক সফলতা প্রধানত নির্ভর করে তার প্রশাসনিক দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জনবল-ব্যবস্থাপনা, দূরদর্শিতা ও পারঙ্গমতার ওপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশাসন বিভাগ এ ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
সমন্বয় বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় ও ফলোআপ এ বিভাগের প্রধান কাজ- বিশেষ করে বিভাগীয় ও জেলা অফিসগুলোয় বরাদ্দকৃত অর্থ প্রেরণসহ কার্যক্রম পরিচালনা ও বাসত্মায়নের ক্ষেত্রে যাবতীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব এ বিভাগের। প্রতিবছর দেশব্যাপী জাতীয় শিশু-কিশোর ইসলামি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনসহ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় দিবস উদযাপন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী জাতীয় শিশুদিবস উপলখ্যে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন, পনেরই আগস্ট জাতির জনকের শাহাদত-বার্ষিকী উপলখ্যে দেশব্যাপী হিফয ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন, যৌতুক প্রতিরোধ, মাদকাসক্তি, শিশু ও নারী পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুষ্টিয়ায় ৮টি হোমিও দাতব্য চিকিৎসালয় পরিচালনা, সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে বাসত্মবায়ন, জেলা পর্যায়ে চঁাদ দেখা কমিটির কার্যক্রম বাসত্মবায়ন ও হজ্জ ব্যবস্থাপনা, যাকাত সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য মাঠ পর্যায়ে ইমাম বাছাই, জেলা কার্যালয়ের লাইব্রেরী পরিচালনা, মসজিদ পাঠাগার স্থাপন এবং সেগুলোর কার্যক্রম পরিদর্শন ও মূল্যায়ন, জেলা অফিসসমূহের বাড়ি ভাড়া চুক্তি নবায়ন ইত্যাদি নানা কর্মসূচি সুচারম্নভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সমন্বয় বিভাগ সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনা প্রদানের দায়িত্ব পালন করে। প্রধান কার্যালয়ে মাসিক সমন্বয় সভা আয়োজনের দায়িত্বও এ বিভাগের।
অর্থ ও হিসাব বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম যাবতীয় কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত। ফাউন্ডেশনের বাজেট প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুযায়ী রাজস্ব খাতের অর্থ ছাড়করণের ব্যবস্থা, যথাযথভাবে ব্যয়-ব্যবস্থাপনা ও এতদসংক্রামত্ম রেকর্ড-পত্র সংরক্ষণ, মাঠ পর্যায়ের সকল অফিসের তহবিল নিরীক্ষা ও প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পদক্ষেপ, অর্থ ও হিসাব সংক্রামত্ম নীতিমালা প্রণয়ন, বাসত্ম-বায়ন, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরীক্ষা আপত্তির নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজ অর্থ ও হিসাব বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
পরিকল্পনা বিভাগ: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের সকল প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, মূল্যায়ন, পরিবীক্ষণ ও বাসত্মবায়নাধীন প্রকল্পসমূহের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং এ সংক্রামত্ম প্রতিবেদন প্রণয়ন, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছাড়করণসহ যাবতীয় কাজ, এডিপি প্রণয়ন, সুপারভিশন, পরিসংখ্যানগত তথ্যাদি প্রণয়ন, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও ষান্মাষিক প্রতিবেদন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে/বিভাগে প্রেরণ ইত্যাদি কাজ এ বিভাগের আওতাভুক্ত।
ইসলামিক মিশন: ইসলামের মানবতাবাদী ও সেবাধর্মী বৈশিষ্ট্যের বাসত্মব রূপায়নে এ বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে। দুস্থ, দরিদ্র ও অনগ্রসর মানুষের চিকিৎসা-সেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রত্যমত্ম অঞ্চলের সহায়-সম্বলহীন জনগণকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সুদমুক্ত ঋণ (কর্জে হাসানা) ও সেলাই প্রশিক্ষণ প্রদান, নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং মসজিদভিত্তিক মক্তব ও নৈশ মক্তব প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, নূরানী পদ্ধতিতে পবিত্র কুরআন ও নামায শিক্ষা প্রদান, পবিত্র কুরআনের তাফসীর ও ইসলামি আদর্শে জনগণকে উদ্বুদ্ধ ও উজ্জীবিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠান বাসত্মবায়নের মাধ্যমে ইসলামের প্রচার-প্রসার; মুবালিস্নগ, নওমুসলিম ও মক্তব শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, ইসলামি আদর্শের ভিত্তিতে জীবন যাপনে জনগণকে সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধ করা, বৃক্ষ রোপণ ও বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ছোবল থেকে দেশকে রক্ষায় সহযোগিতা ইত্যাদি মানব-কল্যাণমুখী নানা কর্মসূচি বাসত্মবায়ন করছে ২৮টি জেলার প্রত্যমত্ম অঞ্চলে অবস্থিত ইসলামিক মিশনের ৩১টি কেন্দ্র। এ ছাড়া বায়তুল মুকাররমস্থ ইসলামিক মিশন ডায়াগনোস্টিক সেন্টার থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা ৪০% কমিশনে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ রোগীদের সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে। দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের কল্যাণে সেবা প্রদান করে ইসলামিক মিশন কেন্দ্রগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হৃদয় জয় করতে সক্ষম হয়েছে।
সংশিস্নষ্ট ক্ষেত্রে ইসলামিক মিশন বিভাগের অর্জন উলেস্নখযোগ্য। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী বায়তুল মুকাররমস্থ ডায়াগনোস্টিক সেন্টার এবং ৩১টি মিশন কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তদের সংখ্যা ২ কোটি ২ লক্ষ্য ৯৭ হাজার ৭০০ জন। ইসলামিক মিশনের বিভিন্ন কেন্দ্র আয়োজিত চক্ষু শিবিরে ১৭ হাজার ৪০২ জনকে চক্ষু চিকিৎসা এবং সুন্নতে খাতনা শিবিরে ১ হাজার ৫ শত ৬৮ জনকে সুন্নতে খাতনা করানো হয়েছে।
দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ: ইসলামের শিক্ষা, আদর্শ, সৌন্দর্য ও চিরমত্মন মহিমা-স্নিগ্ধ পরিশুদ্ধ সংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার-প্রসার ও সমুন্নতকরণে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ ও বাসত্মবায়ন এ বিভাগের কাজ। এ লক্ষ্যে ইসলামের কল্যাণময় বৈশিষ্ট্যাবলি হাইলাইট করে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, আলোচনা সভা, দরসে হাদীস, ওয়াজ ও তাফসীর মাহফিল ইত্যাদির আয়োজন করা হয়। মহানবী (সা)-এর অনুপম শিক্ষা ও আদর্শ ব্যাপকভাবে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি বছর ঢাকায় পক্ষকালব্যাপী পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠানমালার আয়োজনসহ ধর্মীয় ও জাতীয় দিবসসমূহ ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা হয় এ বিভাগের মাধ্যমে। শুধু পুরম্নষদের জন্য নয়, উলিস্নখিত অনুষ্ঠানমালা মহিলাদের জন্যও আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় এ বিভাগের মহিলা শাখার মাধ্যমে। আমত্মর্জাতিক কিরাত ও হিফ্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে প্রতিযোগী বাছাই ও প্রেরণ, জাতীয় পর্যায়ে ফিতরা নির্ধারণ, প্রতিমাসে জাতীয় চঁাদ দেখা কমিটির সভা আয়োজন; মহিলা শাখার মাধ্যমে দরিদ্র ও দুস্থ মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে তাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা, মহিলাদের জন্য একটি স্বতন্ত্র পাঠাগার পরিচালনা প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করছে দীনী দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগ। সর্বশেষ তথ্যানুসারে, এ বিভাগের ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব, দুবাই, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, ইরান, মিশর, জর্দান, তুরস্ক, আলজেরিয়া, ভারত, পাকিসত্মান প্রভৃতি দেশে আয়োজিত হিফ্য, ক্বিরাত ও তাফসীর প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ১১০ জন হাফেজ, ক্বারী ও মুফাসসির বিভিন্ন মানের পুরস্কার অর্জন করেছেন। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ সব পুরস্কারের আর্থিক মূল্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা এবং প্রাপ্ত স্বর্ণমুদ্রার পরিমাণ ৩৫০ ভরি।
বাংলাদেশ ও ভ্রাতৃপ্রতীম মিশর সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় মিশর সরকার প্রদত্ত শিক্ষা -বৃত্তির অধীনে মিশরের বিখ্যাত আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী বাছাইয়ের মতো গুরম্নত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে এ বিভাগ। এ বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত আধুনিক আরবি ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রকে এখন সময়ের প্রয়োজন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে পূর্ণাঙ্গ ভাষা ইন্সটিটিউটে উন্নীত করা হয়েছে। এ বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত অনুবাদ শাখার দক্ষ অনুবাদ-কর্মীদের দ্বারা বিদেশ গমনকারীদের বিভিন্ন সনদপত্র, দলিল, চিঠিপত্র ইত্যাদি নির্ভুলভাবে আরবি-ইংরেজি-বাংলায় অনুবাদ করা হয়। প্রফেশনাল অনুবাদকদের দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা গ্রহণ করে উত্তীর্ণদের সনদ প্রদানের দায়িত্বও এ বিভাগ পালন করে।
এ ছাড়া, বৈশ্বিক বাণিজ্যের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে রপ্তানিযোগ্য খাদ্য, পানীয় ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্য সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক ‘হালাল সনদ’ প্রদান করার দায়িত্ব পালনার্থে এই বিভাগের আওতাধীন একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।
প্রকাশনা বিভাগ: প্রকাশনা-মাধ্যমে ইসলাম প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে এই বিভাগ গুরম্নত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ইসলামের শাশ্বত মহিমা, সৌন্দর্য, শিক্ষা ও আদর্শ হাইলাইট করে এ বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম ৩ হাজার ২০০ শিরোনামের পুসত্মক প্রকাশিত হয়েছে। ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলিসহ পবিত্র কুরআন ও হাদীস সম্পর্কিত এবং মহানবী (সা)-এর জীবনচরিতসহ তঁার অনুপম আদর্শ ও শিক্ষাসম্বলিত বহু বই এ বিভাগ প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, আইন ও বিচার, বিজ্ঞান-স্থাপত্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবাধিকার, যৌতুক ও মাদকাসক্তির কুফল, নারীর অধিকার ও মর্যাদা, সাহাবায়ে কিরামসহ পীর-আউলিয়াদের জীবনী, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা-আন্দোলন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য মনীষীদের জীবনী, শিশুসাহিত্য প্রভৃতি বিষয়ে পুসত্মক প্রকাশিত হয়েছে এ বিভাগ থেকে। বস্ত্তত ইসলামি সাহিত্যের উৎকর্ষ ও বিকাশ সাধন, পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান এবং সাহিত্যিক সৃষ্টি ও পরিশীলিত মানস গঠনের ক্ষেত্রে এ বিভাগ এক নীরব বিপস্নব সাধন করেছে।
প্রকাশনা বিভাগের বই মুদ্রণ ও পুনর্মুদ্রণ ছাড়াও অন্যান্য বিভাগ থেকে প্রকাশিত অনেক পুসত্মকের পুনর্মুদ্রণের দায়িত্বও এ বিভাগ পালন করে। এ পর্যায়ে উলেস্নখযোগ্য পুনর্মুদ্রিত পুসত্মকগুলোর মধ্যে রয়েছে: বঙ্গানুবাদসহ আল-কুরআনুল করীম, সিহাহ্ সিত্তাহ্র হাদিসের সংকলনসমূহ, তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, তাফসীর ইবনে কাছীরসহ জগদ্বিখ্যাত অন্যান্য তাফসীর গ্রন্থ, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, সাইন্টিফিক ইনডিকেশন্স ইন দি হোলি কুরআন, আল-হিদায়া, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইসলামী বিশ্বকোষ, আল-কুরআন বিশ্বকোষ-এর পুনর্মুদ্রণ ইত্যাদি। এ বিভাগ থেকে সৃজনশীল মাসিক পত্রিকা অগ্রপথিক এবং সচিত্র শিশু-কিশোর মাসিক পত্রিকা সবুজ পাতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে ইসলামি আদর্শ ও মনন বিকাশে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকাশিত বই ও পত্রিকা রক্ষণাবেক্ষণ, বিক্রয়-বিপণনের দায়িত্বও এ বিভাগের ওপর ন্যসত্ম।
গবেষণা বিভাগ: পবিত্র কুরআন ও হাদিসসহ ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলি এবং ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ এবং সংশিস্নষ্ট বিষয়ে পুসত্মক প্রকাশ এ বিভাগের দায়িত্ব। এ বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম ১২০টি গবেষণা-গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উলেস্নখযোগ্য হলো: Scientific Indications in the Holy Qur’an, Muslim Contribution to Science & Technology, দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম, ছোটদের বিশ্বকোষ, বিধিবদ্ধ ইসলামী আইন, আল-কুরআনের বিষয়ভিত্তিক আয়াত, জরম্নরী ফাতাওয়া ও মাসাইল, হাদীস ও সামাজিক বিজ্ঞান, আরবী-বাংলা ও বাংলা-আরবী অভিধান ইত্যাদি। এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত Scientific Indications in the Holy Qur’an Ges Muslim Contribution to Science & Technology বই দুটি বিষয়ের উপস্থাপনা ও জ্ঞানের গভীরতায় আমত্মর্জাতিক মানসম্পন্ন এবং অনুসন্ধিৎসু পাঠক ও গবেষকদের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। দৈনন্দিন জীবনে ইসলাম বইটিও পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদর লাভ করেছে।
এ বিভাগ থেকে ‘ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা’ শীর্ষক একটি গবেষণা ত্রৈমাসিক দীর্ঘ ৫০ বছর যাবত প্রকাশিত হচ্ছে্, যা গবেষক ও সুধীজনের উচ্চতর গবেষণা কর্মে বিপুলভাবে সহায়তা করছে।
অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ: বিশ্ব-জ্ঞানভা-ারকে অনুবাদের মাধ্যমে বাংলাভাষী পাঠকদের সামনে তুলে ধরার মহতী লক্ষ্যে অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ নিবেদিত। কুরআনুল করীম, তাফসীর, সিহাহ্ সিত্তাহ্সহ অন্যান্য প্রামাণ্য হাদিস সংকলনসমূহ এবং বিভিন্ন বিষয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় রচিত ক্লাসিক ও আধুনিক গ্রন্থাদি বাংলায় অনুবাদ ও প্রকাশ করার কাজে এ বিভাগ গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে । অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ থেকে এ পর্যমত্ম অনূদিত ও প্রকাশিত মোট গ্রন্থের সংখ্যা ৩৫৯টি । এ বিভাগ থেকে প্রকাশিত আল-কুরআনুল করীমের বঙ্গানুবাদটি বিশুদ্ধতা, প্রামাণ্যতা ও শিল্পসুষমায় অনন্য, যা কোটি কোটি কুরআন-পিপাসু মানুষের চাহিদা মিটিয়ে চলেছে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে।
অনুবাদ ও সংকলন বিভাগ থেকে আরও যে-সকল গুরম্নত্বপূর্ণ গ্রন্থ অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: হাদীস-সিহাহ্ সিত্তাহ্র পূর্ণ সেট (সহিহ্ বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আবূ দাঊদ ও ইবনে মাজাহ্ শরীফ), মুয়াত্তা ইমাম মালিক, মুয়াত্তা ইমাম মুহাম্মদ, তাজরীদুস সিহাহ্ (পুনরাবৃত্তিমুক্ত সহিহ্ হাদীস), আখলাকুন নবী (সা), আল-আদাবুল মুফরাদ (অনন্য শিষ্টাচার) ইত্যাদি; তাফসীর-তফসীরে মা’আরেফুল কোরআন, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে ইবনে কাছীর, তাফসীরে তাবারী, তাফসীরে মাজেদী, তাফসীরে মাযহারী, তাফসীরে উসমানী, তাফসীরে ইবনে আববাস, তাফসীরে কাবীর প্রভৃতি জগদ্বিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ। এ ছাড়া ফাতওয়ায়ে আলমগীরী, আল-হিদায়া, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (ইসলামের ইতিহাস: আদি-অমত্ম); মহানবী (সা)-এর জীবন ও কর্ম বিষয়ক সীরাত-গ্রন্থ সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিশাম, আসাহ্হুস সিয়ার, মহানবীর (সা) জীবন-চরিত, রাসূলে রাহমত (সা), নবীয়ে রহমত (সা), সীরাতুল মুমত্মফা (সা)। আধুনিক মননসমৃদ্ধ বইয়ের মধ্যে রয়েছে-ইসলাম দ্য অলটারনেটিভ, মৌলিক মানবাধিকার, ইসলামের অর্থনৈতিক মতাদর্শ, অসত্যের কালোমেঘসহ আরও বেশকিছু গুরম্নত্বপূর্ণ বই।
ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগ: এই বিভাগের কাজ হলো ইসলাম ও ইসলাম-সম্পৃক্ত বিভিন্ন ধরনের বিশ্বকোষ প্রকাশ। এ বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ২৬ খন্ড (২৮টি বই) সম্বলিত বাংলাভাষার বৃহত্তম বিশ্বকোষ, যার শিরোনাম ‘ইসলামী বিশ্বকোষ’। এই বৃহদায়তন বিশ্বকোষটি ইসলাম, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি-মনীষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, স্থাপত্য, আইন ও বিচার ইত্যাদি বিষয়ে এক সুবিশাল তথ্য-ভান্ডার। ব্যবহারের সুবিধার কথা চিমত্মা করে ‘সংক্ষিপ্ত ইসলামী বিশ্বকোষ’ শিরোনামে বৃহত্তর ইসলামী বিশ্বকোষের একটি সংক্ষিপ্ত ভার্সানও প্রকাশিত হয়েছে দু’খন্ডে। এই বিভাগের আরেকটি উলেস্নখযোগ্য প্রকাশনা হলো নবী-রাসূল ও সাহাবীদের জীবন-কর্মসম্বলিত ২২ খন্ডে সমাপ্য ‘সীরাত বিশ্বকোষ’-যার মধ্যে ১৪টি খন্ড ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে, বাকি খন্ডগুলোও যথাসময়ে প্রকাশিত হবে । পবিত্র কুরআনের সুগভীর জ্ঞান-ভান্ডার সহজভাবে, ছোট ছোট ভুক্তির (ঊহঃৎু) আকারে জনগণের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্যে এ বিভাগ ‘আল-কুরআনুল করীম সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাসত্মবায়ন করছে- এর আওতায় তিন খন্ডে আল-কুরআন বিশ্বকোষ এ বছরের মধ্যেই প্রকাশিত হবে।
দেশের প্রখ্যাত ইসলামি চিমত্মাবিদ, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষকগণ ইসলামী বিশ্বকোষ বিভাগের বিভিন্ন গ্রন্থের ভুক্তি বা নিবদ্ধ রচনা করেন এবং একটি শক্তিশালী সম্পাদনা পরিষদের মাধ্যমে যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়ে সেগুলো প্রকাশের জন্য চূড়ামত্ম হয়।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী: ইসলামিক ফাউন্ডেশন-এর ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু বাংলাদেশে নয়, এই উপমহাদেশে একটি ব্যতিক্রমধর্মী ও ফলপ্রসূ কার্যক্রম। সারাদেশের প্রত্যমত্ম এলাকায় অবস্থিত আড়াই লক্ষ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জাতীয়ভাবে ক্ষমতায়ন ও আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে এই একাডেমী যুগামত্মকারী সাফল্য অর্জন করেছে। মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ইসলামের মৌলিক বিষয়সহ আর্থ-সামাজিক বিষয়-যেমন: মৎস্যচাষ, হঁাস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, বৃক্ষরোপণ ও বনায়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রজনন স্বাস্থ্য, শিশু ও মাতৃমঙ্গল, এইডস প্রতিরোধ, যৌতুক ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ বিরোধী জনসচেতনতা, জেন্ডার সমতা ইত্যাদি যুগোপযোগী নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় সংশিস্নষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের মাধ্যমে। আগে যেখানে শুধু মসজিদের সীমিত গন্ডির মধ্যে ইমামদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ ছিলো, প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তঁারা এখন সমাজের নানা ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে একদিকে সমাজে তঁাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে তঁারা নানা আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত হয়ে আর্থিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন।
ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমী থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিক উৎকর্ষ বৃদ্ধির জন্য এবং ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র এবং বেকার যুবকদের আয় বৃদ্ধিকল্পে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে এ পর্যমত্ম মোট ৬৬ হাজার ৩২৭ জন ইমামকে নিবিড় প্রশিক্ষণ, ২১ হাজার ১৬৬ জন ইমামকে রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ, ১ হাজার ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ, ১ হাজার ৪৮০ জন ইমাম, মাদ্রসার ছাত্র ও বেকার যুবককে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ৩০ হাজার ৪৮ জন ইমামকে মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক এবং ইউএসএইড-এর অর্থায়নে এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ১৫ হাজার ১ জন ইমামকে লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (এল. ও. আই.) প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় এ পর্যমত্ম সর্বমোট প্রশিক্ষণ গ্রহণকারীর সংখ্যা ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ১২২ জন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা/বিভাগের মোট ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাসত্মবায়িত হচ্ছে। ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশের সার্বিক মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিরাট ইতিবাচক অর্জন।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরী: লাইব্রেরী জ্ঞান ও তথ্যের ভান্ডার-জ্ঞানের অসংখ্যা মুক্তো থরে থরে সাজানো থাকে লাইব্রেরী বা গ্রন্থাগারে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীও তার ব্যতিক্রম নয়। পবিত্র কুরআন, হাদীস, তাফসীর, ইসলাম ও ইসলামসম্পৃক্ত বিষয়াবলি, মুসলিম ইতিহাস-ঐতিহ্য-কৃষ্টি-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, মুসলিম মনীষীসহ অন্যান্য মনীষীদের জীবনী, সাহিত্য-শিল্প, শিশুসাহিত্য, বিভিন্ন ভাষার বিশ্বকোষ-জ্ঞানকোষ ইত্যাদিসহ নানা মূল্যবান ও দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থে সমৃদ্ধ এ লাইব্রেরী। অন্যান্য ধর্মের ধর্মগ্রন্থও ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীতে পাওয়া যায়। এ লাইব্রেরীতে আরও রয়েছে উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ হসত্মলিখিত কুরআন শরীফ, হযরত উসমান (রা)-এর সময়ে হাতে লেখা কুরআন শরীফ ‘মাসহাফে উসমানী’, অন্ধদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির কুরআন শরীফসহ বিভিন্ন ছাপার কুরআন শরীফ। অনুসন্ধানী গবেষক এবং তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এই লাইব্রেরী ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বিপুলভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এটি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামি লাইব্রেরী- বর্তমানে এর পুসত্মক সংখ্যা ১ লক্ষ ১২ হাজার । এ ছাড়া দৈনিক, সাপ্তাহিক ও অন্যান্য সাময়িকী মিলিয়ে দেশী-বিদেশী ৪০টি পত্র-পত্রিকা রাখা হয় পাঠক-গবেষকদের জন্য। লাইব্রেরী ভবনের নিচ তলায় বাংলাদেশের কৃষ্টি-কালচার ও ইসলামি কালচারের সমন্বয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত একটি প্রদর্শনী হল রয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন লাইব্রেরীতে অটোমেশন কার্যক্রম অর্থাৎ কম্পিউটারের মাধ্যমে পাঠক-গবেষকদের যাবতীয় সেবা প্রদানের লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে লাইব্রেরীর সব সুবিধা দেশ-বিদেশের পাঠক-গবেষকদের হাতের মুঠোয় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের যে-কোনো প্রামেত্মর পাঠক ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইব্রেরীর সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এ ছাড়া আগ্রহী পাঠক-গবেষকগণকে জরুরি প্রয়োজনে বই/বইয়ের অংশবিশেষ ফটোকপি সার্ভিসও প্রদান করা হয়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমৃদ্ধ লাইব্রেরীটি বর্তমানে বায়তুল মুকাররম মসজিদের দক্ষিন -পূর্ব কোণে একটি সুপ্রসস্থ নতুন ভবনে (৪র্থ তলা পর্যন্ত নির্মিত) স্থানান্তরিত হয়েছে, যেখানে পাঠক-গবেষকগণ একটি মনোরম পরিবেশে অধিকতর স্বচ্ছন্দভাবে অধ্যয়ন ও গবেষণার সুযোগ পাচ্ছেন। অদূর-ভবিষ্যতে লাইব্রেরী ভবনের ৪র্থ তলায় মহিলা, শিশু, অন্ধ, প্রতিবন্ধী ও বয়োবৃদ্ধদের জন্য আলাদা পাঠক কক্ষের ব্যবস্থা রাখা হবে। উল্লেখ্য, লাইব্রেরীর নতুন ভবনে পাঠকদের স্বচ্ছন্দ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য লিফ্ট ও জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানা: ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, গবেষণা, অনুবাদ ও সংকলন এবং বিশ্বকোষ বিভাগের সুবিশাল প্রকাশনা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের কাজে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেস গুরুত্তপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সব বিভাগের সকল বই ও পত্র-পত্রিকা মুদ্রণের কাজ করছে ফাউন্ডেশন প্রেস। এ ছাড়া মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের যাবতীয় পাঠ্যপুস্তক এবং ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমীর যাবতীয় প্রকাশনা কাজও করে থাকে ফাউন্ডেশন প্রেস।
অত্যাধুনিক মুদ্রণ-যন্ত্রসমৃদ্ধ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ছাপাখানা বাংলাদেশের সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্বলিত ছাপখানাগুলোর মধ্যে অন্যতম। পর্যাপ্ত স্থানসম্বলিত দ্বিতল ভবনে অবস্থিত এই ছাপাখানায় রয়েছে অত্যাধুনিক ৪টি হাইডেলবার্গ, ১টি সিটিপি, ১টি কাটিং ও ১টি অটোমেটিক ফোল্ডিং মেশিন, ওএমআর মিনি অফসেট মেশিন, ফয়েল প্রিন্টিং মেশিন, স্টিচিং মেশিন, ফ্লাড বেড স্ক্যানার, ডিজিটাল সিকিউরিটি সংক্রামত্ম আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর, ভিডিও রেকর্ডিংসহ সিসি ক্যামেরা ও এক্সেস কন্ট্রোল মেশিন; রয়েছে কম্পিউটার, ক্যামেরা ও পেস্নট-প্রসেস সেকশন এবং একটি আলাদা ভবনে নিজস্ব বঁাধাইখানা। মেশিন, কম্পিউটার, পেস্নট ও প্রসেস সেকশন শীতাতপ-নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় কর্মীরা উন্নত ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন। বস্ত্তত আধুনিকায়ন এবং অভ্যমত্মরীণ প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত উৎকর্ষের কারণে বর্তমানে প্রেসটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।
যাকাত বোর্ড: ইসলামের মানবতাবাদী আদর্শের বাসত্মব রূপায়ন তথা দুস্থ অসহায় মানুষের কল্যাণে যাকাত বোর্ড নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। ইসলামের একটি অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ হলো যাকাত, যা দুস্থ-দরিদ্রদের জন্য বিত্তবানদের সম্পদের শরীয়ত-নির্ধারিত একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে প্রদান করতে হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে যাকাত সংগ্রহ এবং তা যথাযথভাবে দুস্থ-দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি রয়েছে। এই কমিটির নির্দেশনা মোতাবেক ইসলামিক ফাউন্ডেশন তার নিজস্ব জনবলের সাহায্যে সারা দেশ থেকে যাকাত ফান্ডে অর্থ সংগ্রহ করে এবং এই কমিটির দিকনির্দেশনা অনুযায়ী তা ব্যয় করা হয়।
যাকাত ফান্ডের অর্থে অসহায়, দুস্থ ও অসুস্থদের স্বাস্থসেবাসহ আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এ সব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- টংগী শিশু হাসপাতাল পরিচালনা, সেলাই প্রশিক্ষণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা-উপকরণ বিতরণ, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, দরিদ্র বেকারদের রিকশা/ভ্যান ও সেলাই মেশিন প্রদান, অসহায় বিধবা মহিলাদের দারিদ্র্য বিমোচন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে হঁ।স-মুরগি, গরম্ন-ছাগল প্রদান, নদী ভাঙন এলাকায় বাস্ত্তহারা দরিদ্র মহিলাদের গৃহনির্মাণে সহায়তা দান, দরিদ্র বেকারদের মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ প্রদান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ে পুঁজির সংস্থান ইত্যাদি সেবামূলক কর্মসূচি।
যাকাতের অর্থে এ পর্যমত্ম ৫ লক্ষ ৪৫ হাজার ৮৮১ জনকে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা, ১২ হাজার ৪৮২ জন দুস্থকে সেলাই প্রশিক্ষণ, ৯ হাজার ৯৮ জন দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি, ২ হাজার ১৬টি রিকশা/ভ্যান ও সেলাই মেশিন, বিধবা পুনর্বাসনের লক্ষক্ষ্য ৬ হাজার ৭৭৮ জনকে হঁাস-মুরগি ও গরম্ন-ছাগল পালনের জন্য আর্থিক সহায়তা, ১,৫৭২টি গৃহনির্মাণ সহায়তা, ২১ জনকে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, সিডরে ক্ষতিগ্রসত্ম পটুয়াখালি, বরগুনা ও সাতক্ষক্ষরা জেলার ২ হাজার ৭০০ জনকে শীতবস্ত্র প্রদান এবং আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ বরগুনা ও বাগেরহাট জেলার ৫০০ জনকে আর্থিক সাহায্য ও ত্রাণসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এ পর্যমত্ম ৫০৪ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে পঁুজি এবং ৮০৪ জন দুস্থ ও ৫৭ জন নওমুসলিমকে চিকিৎসা ও অর্থসাহায্য প্রদান করা হয়েছে।
যাকাত ফান্ডের অর্থ আয়করমুক্ত। এ ফান্ডে আরও অধিক পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হলে দুস্থ মানবতার কল্যাণে যাকাত বোর্ড আরও বৃহত্তর পরিসরে বেশি বেশি কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারবে বলে আশা করা যায়।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প: সরকারের সার্বিক নিরক্ষরতা দূরীকরণ কার্যক্রম ও শিক্ষা প্রসারের অব্যাহত প্রয়াস-প্রচেষ্টার পরিপূরক হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম ইতোমধ্যে ব্যাপক সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে- এই প্রকল্পের সফলতার হার ১০০%, কখনও কখনও তারও বেশি। বিনা খরচে মসজিদের স্থান ব্যবহার, স্বল্প খরচে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের শিক্ষক হিসেবে পাওয়া এবং কর্তৃপক্ষীয় নিবিড় তদারকি ও ফলোআপ-এ ক’টি অনুষঙ্গই মূলত এ কার্যক্রমের বিস্ময়কর সফলতার চাবিকাঠি। এই কার্যক্রমের অধীনে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশুদের এবং বয়স্ক নিরক্ষরদের সাক্ষরতা প্রদান করা হয়। বাংলা, অংক, ইংরেজি ও ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দেয়া হয় কেন্দ্রগুলোতে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে এই কার্যক্রমের সফলতা ও ফলপ্রসূতা খুবই আশাব্যঞ্জক। গণশিক্ষা কেন্দ্র থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে শিশুরা প্রাইমারি স্কুলে প্রথম শ্রেণীতে, অনেকে আবার সরাসরি ২য় শ্রেণীতেও ভর্তি হতে পারছে। প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুদের ধারণ ক্ষমতা মজবুত হওয়ার কারণে প্রাইমারি স্কুলে তাদের ঝ‘রে পড়ার (ড্রপ-আউট) হারও নগণ্য।
এই প্রকল্পের অধীনে বিগত চারটি পর্যায়ে (১৯৯৩-‘৯৫, ১৯৯৬-২০০০, ২০০০-২০০৫ ও জানুয়ারি ২০০৬-ডিসেম্বর ২০০৮ পর্যমত্ম) সর্বমোট ৪১ লক্ষ ৩৯ হাজার ১১০ জনকে শিক্ষাদান করা হয়েছে। প্রতি পর্যায়ে সফলতার হার শতভাগেরও বেশি।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের ৫ম অর্থাৎ চলতি পর্যায়ে ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে ৬৪৩.৫৫ লক্ষ টাকার একটি সুবিশাল প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে বাসত্মবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের অধীনে দেশের ৪৮৫টি উপজেলায় মোট কেন্দ্রের সংখ্যা হলো- প্রাক-প্রাথমিক: ২৪ হাজার, বয়স্ক: ৭৬৮, পবিত্র কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র ১২ হাজার, সাধারণ রিসোর্স সেন্টার: ১ হাজার ৫১টি এবং মডেল রিসোর্স সেন্টার: ৪৮৫টি। চলমান ৫ম পর্যায়ের এই প্রকল্পে বিগত ২ বছরে ২০ হাজার প্রাক-প্রাথমিক কেন্দ্রের মাধ্যমে ১১ লক্ষ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রাক-প্রাথমিক, ১২ হাজার কুরআন শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮ লক্ষ ৪০ হাজার জনকে কুরআন শিক্ষা এবং ৭৬৮টি বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে ৩৮ হাজার ৪০০ জনকে বয়স্ক শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ রিসোর্স সেন্টার এবং মডেল রিসোর্স সেন্টারের কার্যক্রমও সমেত্মাষজনকভাবে বাসত্মবায়িত হচ্ছে।
মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পটি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধিক জনবলসমৃদ্ধ প্রকল্প।
মসজিদ পাঠাগার প্রকল্প : বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যমত্ম জরম্নরি একটি প্রকল্প। দেশের বিভিন্ন প্রত্যমত্ম এলাকায় ইসলামি জ্ঞান বিসত্মারের মাধ্যম হিসেবে এই প্রকল্পের অধীনে ৪৭৭টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত মসজিদ পাঠাগারগুলো ইতোমধ্যে ব্যাপক কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এই প্রকল্পের অর্থায়নে ক্রয়কৃত বই দিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন মসজিদে এ পর্যমত্ম ২৫ হাজার ১৩২টি পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে মডেল পাঠাগারের সংখ্যা ৬৪টি। এ ছাড়া, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪ হাজার ৩০০টি বিদ্যমান পাঠাগারে পুসত্মক সংযোজন করা হয়েছে এবং ৬ হাজার ১০০টি পাঠাগারে এ সব পাঠাগারে পুসত্মক সংরক্ষণের জন্য আলমারি ও শোকেস প্রদান করা হয়েছে। পবিত্র কুরআন, হাদীস, তাফসীর ও ইসলাম সংক্রামত্ম নানা গুরম্নত্বপূর্ণ বই, মুসলিম মনীষীদের জীবনী, জাতীয় ও ইসলামের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ক বইসহ পত্র-পত্রিকা-সাময়িকী রাখা হয়। এ সব পাঠাগার ব্যবহার করে অনগ্রসর প্রত্যমত্ম এলাকার জনগণ নৈতিক উৎকর্ষ ও ইসলামি জ্ঞান অর্জন করে বিপুলভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
বায়তুল মুকাররম মসজিদ: ৮.৩০ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত সাত তলাবিশিষ্ট দেশের সর্ববৃহৎ এ মসজিদটিতে পূর্ব ও দক্ষিন দিকের সাহান মিলিয়ে বর্তমানে সর্বমোট ৩৫ হাজার মুসলিস্ন একসাথে নামায আদায় করতে পারেন। মসজিদের অভ্যন্তরে ওযুর ব্যবস্থাসহ মহিলাদের জন্য আলাদা নামায-কক্ষ ও পাঠাগার রয়েছে। মসজিদের নিচতলায় রয়েছে একটি বৃহৎ মার্কেট কমপ্লেক্স । সৌদি অর্থায়নে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ মসজিদের সু-উচ্চ মিনার নির্মাণসহ সৌন্দর্যবর্ধন ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ার পেক্ষাপটে এর স্বাচ্ছন্দময় সেবার পরিধি এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যান্য কার্যক্রম
ক. রাজস্ব খাতে চলমান প্রকল্প: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বর্তমানে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতভুক্ত নিম্নবর্ণিত প্রকল্পসমূহ বাসত্মবায়ন করছে:
১) মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (৫ম পর্যায়)। মেয়াদকাল: জানুয়ারি ২০০৯-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৬৪৩৫৫.০০ লক্ষ টাকা।
২) মসজিদ পাঠাগার স্থাপন প্রকল্প (৬ষ্ঠ পর্যায়)। মেয়াদকাল: জুলাই ২০০৮-জুন ২০১১। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৩২৬.৯৫ লক্ষ টাকা।
৩) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প (২য় সংশোধিত)।
মেয়াদকাল: জুলাই ২০০৫-জুন ২০১১। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৬৪৯.০০ লক্ষ টাকা।
৪) লিডার্স অব ইনফ্লুয়েন্স (এল. ও. আই)। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৬.০০ লক্ষ টাকা।
৫) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ডিজিটালে রূপামত্মর এবং ডিজিটাল আর্কাইভ স্থাপন।
মেয়াদকাল: সেপ্টেম্বর ২০১০-জুন ২০১২। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১০০৭.০০ লক্ষ টাকা। খ. নতুন প্রকল্পসমূহ:
১) ঝালকাঠি ইসলামিক মিশন কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১৮০৩.০০ লক্ষ টাকা।
২) ইসলামিক মিশন কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প (ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ)। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২০৯০.০০ লক্ষ
টাকা।
৩) বঙ্গবন্ধু শিশুমঞ্চ প্রকল্প: কমপেস্নক্স নির্মাণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৩৫.০০ লক্ষ টাকা।
৪) ইসলামী প্রকাশনা কার্যক্রম শীর্ষক প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৭৫৭২.০০ লক্ষ টাকা।
৫) গোপালগঞ্জ ইসলামিক মিশন স্বাস্থ্যসেবা এবং ইমাম প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প।
মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-জুন ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ২৪৫০.০০ লক্ষ টাকা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা ভবন নির্মাণ (২য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০- জুন ২০১৩।
প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৩৬৫৬.০০ লক্ষ টাকা।
সোলার প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গাকরণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৭১৬২.০০ লক্ষ টাকা।
গ. সম্ভাব্য বাসত্মবায়নযোগ্য প্রকল্পসমূহ:
১) প্রাইমারী স্কুলভিত্তিক ধর্মীয় ও নৈতিকতা উন্নয়ন শিক্ষা প্রকল্প। মেয়াদকাল: জুলাই ২০১০-ডিসেম্বর ২০১৪। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১১৬৩৬০.০০ লক্ষ টাকা।
২) আলেমদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষক্ষ্য যাকাত, উশর আদায় ও বিতরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্প। মেয়াদকাল: জানুয়ারি ২০১১-ডিসেম্বর ২০১৩। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ১২০৩৬০.০০ লক্ষ টাকা।
ঘ) রাজস্ব বাজেটের আওতায় প্রসত্মাবিত কর্মসূচি:
১) সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ দমন এবং ইসলামের আলোকে সামাজিক সমস্যা সমাধান। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৩০.০০ লক্ষ টাকা।
২) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়সহ ৭টি বিভাগের নিজস্ব ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপন কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৩৩৮.০০ লক্ষ টাকা।
৩) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব, ইসলামিক মিশন ও ইমাম প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুসংহত ও জোরদারকরণ। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৭৫.০০ লক্ষ টাকা।
৪) বায়তুল মুকাররম মসজিদ শীতলীকরণ কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৯৮৫.০০ লক্ষ টাকা।
৫) সৌদি সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে বাসত্মবায়নযোগ্য কর্মসূচি। প্রকল্পের মোট ব্যয়: ৮৩০.০০ লক্ষ টাকা।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লালিত স্বপ্নের স্বর্ণফসল ইসলামিক ফাউন্ডেশন। তিনি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়ে সমগ্র জাতিকে যেভাবে অভাবনীয় এক ঐক্যচেতনায় উজ্জীবিত-প্রণোদিত করেছিলেন, সেই একই উদ্দেশ্য কাজ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পেছনে। ইসলামের অপব্যাখ্যা এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ সম্পর্কে অনেক সময় সাধারণ মানুষের স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণে স্বার্থান্বেষীদের প্ররোচনায় সমাজে অনেক সময় মারাত্মক বিভ্রামিত্ম ভেদ-বিভেদ ও দলাদলি-বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়-যার ভয়াবহ দৃষ্টামত্ম পাওয়া যায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে। এ তিক্ত বাসত্মবতার প্রেক্ষাপটেই বঙ্গবন্ধু দেশের হাক্কানী আলেম সমাজ, ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামি চিমত্মাবিদদের ঐক্যবদ্ধ করে একটি অভিন্ন পস্নাটফর্ম থেকে ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তঁার সূচিত সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন এক বিশাল মহীরম্নহসদৃশ। এই প্রতিষ্ঠান সারা দেশের প্রত্যমত্ম এলাকা পর্যমত্ম তার কর্মসূচি বিস্তৃত করেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐক্যচেতনায় উজ্জীবিত হয়ে শামিত্ম, কল্যাণ ও মানবতার ধর্ম ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচার-প্রসারকল্পে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ এবং সর্বসত্মরের ইসলামপ্রিয় জনগণের সহযোগিতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগামী দিনে ঐক্যবদ্ধভাবে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যাবে; ইসলামের নামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদসহ অন্যান্য ফেতনা প্রতিরোধের কাজে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজে অধিকতর অবদান রাখবে।


